দেশ 

দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির কর্মসূচিকে অবৈধ বলে সোমবারের সংসদ অভিযানে অনুমতি দিল না দিল্লী পুলিশ

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ অবস্থান ও অনশন কর্মসূচিকে দিল্লী পুলিশ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে। প্রায় এক মাস ধরে তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশের দাবি, একদিনের জন্য যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি করার অনুমতি ছিল। অন্য দিকে, সোমবার সিজেপি-র সংসদ অভিযানের কোনও অনুমতি মিলবে না বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যদিও সোমবারের অভিযান নিয়ে এখনও অনড় ‘ককরোচ’ দল।

সিজেপি আগেই ঘোষণা করেছিল, সোমবার (২০ জুলাই) যন্তর মন্তর থেকে মিছিল করে তারা সংসদ যাবে। কেন ওই দিনকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই কর্মসূচির জন্য, তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। সোমবারই সংসদে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। সেই কথা মাথায় রেখেই সংসদ অভিমুখে মিছিল করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইবে বলে জানিয়েছে তারা। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের অভিযানের জন্য কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি। আর সংসদ অভিযানের অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

দিল্লি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্তাকে উদ্ধৃত করে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ জানিয়েছে, সংসদমুখী যে কোনও মিছিল থামিয়ে দেওয়া হবে। সংসদ এবং তার আশপাশের এলাকা উচ্চনিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে পড়ে। সেই এলাকায় এ ধরনের কোনও কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, মধ্য দিল্লিতে যানজটের আশঙ্কাও থাকে। সেই কারণে সংসদ অভিযানের মতো কোনও কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না। যদি বড় কোনও মিছিল সংসদের দিকে এগোয়, তবে সেটা আটকে দেওয়া হবে।

যন্তর মন্তরে সিজেপি-র কর্মসূচি ‘বেআইনি’ বলেও উল্লেখ করেছে দিল্লি পুলিশ। ওই পুলিশ কর্তার দাবি, যন্তর মন্তরে কর্মসূচি করার জন্য সিজেপি-র কাছে মাত্র একদিনের অনুমতি ছিল। সেই মর্মে তারা অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষরও করেছিল। কিন্তু পরবর্তী কালে অনুমতি ছাড়াই তারা অবস্থান বিক্ষোভের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

সোমবারের কর্মসূচির অনুমতি চাওয়া হয়নি বলে দিল্লি পুলিশ যে দাবি করছে, তা মানতে নারাজ সিজেপি। সেই দলের মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর বলেন, ‘‘আমরা অনেক আগেই পুলিশকে মিছিলের বিষয়ে জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের মিছিল বা কর্মসূচি সম্পর্কে ভাল ভাবেই অবগত।’’ তবে এ-ও স্বীকার করেছেন, বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানো হয়নি। সশরীরে দিল্লি পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

 

নিট কেলেঙ্কারির পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন সিজেপি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে। তার সাত দিন পরে সোনম ওয়াংচুক সেই মঞ্চেই অনশনে বসেন। টানা ২০ দিন অনশনের পর দিল্লি পুলিশ শনিবার তাঁকে জোর করে তুলে দিল্লি সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায়। যদিও তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো জানান, হাসপাতালে থাকলেও অনশন ভাঙেননি ওয়াংচুক। আগে যেমন নুনজল খাচ্ছিলেন, হাসপাতালেও তিনি শুধু নুনজলই খেয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুকের শরীরে তরলের অভাব রয়েছে। স্যালাইন বা ওষুধের প্রয়োজন থাকলেও তিনি চিকিৎসা নিতে নারাজ। পরিবারের তরফে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া ওয়াংচুকের যেন কোনও চিকিৎসা করানো না-হয়। ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর দিল্লির যন্তর মন্তরে সেই মঞ্চেই অনশন শুরু করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ